ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান

সব কিছু চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি আমার নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে পোস্টার লাগাবো না

দেয়ালে পোস্টার লাগানো নিয়ে আমি শুরু থেকেই comfortable ছিলাম না। কিন্তু সবার পরামর্শ ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে মাথায় না রাখলে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। সব পরিবর্তনও একবারে আসবে । প্রার্থীকে চেনার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে পোস্টার। গণসংযোগেও অনেক মানুষ প্রশ্ন করছে, “ভাই, আপনাকে তো কোন পোস্টারে দেখলাম না?”

সবার পরামর্শে এবং ground reality মাথায় রেখে পরীক্ষামূলকভাবে অল্প কিছু পোস্টার লাগানো হয়েছিল। গাজীপুর-৬ আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা একেকজন কয়েক লাখ পোস্টার লাগিয়েছেন। তাদের তুলনায় ১ শতাংশও পোস্টার লাগানো হয়নি।

কিন্তু নিজের পোস্টার দেয়ালে লাগানো দেখে নিজের কাছে খারাপ লেগেছে। নিজের বিবেকের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে হয়েছে। গত কয়েক দিন নিজেকে প্রশ্ন করেছি।

সব কিছু চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি আমার নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে পোস্টার লাগাবো না। অল্প যতটুকু লাগানো হয়েছে সেগুলো আমরা নিজেরাই ছিঁড়ে ফেলবো এবং অন্যদেরও উৎসাহ দেবো ছিঁড়ে ফেলার জন্য।

পোস্টারের বদলে ফেস্টুন লাগানো যেতে পারে। ফেস্টুন নির্বাচনের পর খুব সহজেই খুলে ফেলা যাবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে খরচ। একটা ফেস্টুনের টাকা দিয়ে প্রায় ১০০টা পোস্টার লাগানো যায়। তারপরও আমাদের এই স্যাক্রিফাইস করতে হবে, নতুন রাজনীতির জন্য।

যারা পোস্টার লাগিয়েছেন এবং পোস্টার লাগিয়ে ক্যাম্পেইন করবেন, বাংলাদেশের গ্রাউন্ড রিয়ালিটিকে সামনে রেখে, তাদের প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। তবে অনুরোধ করবো, যদি সম্ভব হয় পোস্টারমুক্ত ক্যাম্পেইন করুন। যদি সম্ভব হয় নিজের পোস্টার ছিঁড়ে দেয়ালগুলো পরিষ্কার করুন। এভাবেই আমাদের নতুন রাজনীতি নতুন মাত্রা পাবে।

Together We Can

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top